জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে, অথবা নতুন ভাবে করতে গেলে যা করতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে বা হারিয়ে গেলে, অথবা নতুন ভাবে করতে গেলে যা করতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে অনেককেই বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আবার যারা নতুন পরিচয়পত্র করতে চায় তাদের মধ্যে অনেকেই এ বিষয়ে অজ্ঞত। কিভাবে কি করতে হবে, কোথায় গিয়ে করতে হবে, কি কি লাগবে ইত্যাদি বিষয় জানেন অনেকেইা। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য নিচের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করলে আশা করি খুব সহজেই নিজেরা সমস্যার সমাধান করতে পাবেন।

নাম সংশোধনঃ
পরিচয়পত্রে থাকা নিজের নাম, পিতা, স্বামী কিংবা মাতার নাম সংশোধন করতে চাইলে তাকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে-
১। এসএসসি বা সমমান সনদ।
২। নাগরিকত্ব সনদ।
৩। জন্মনিবন্ধন সনদ।
৪। চাকরির প্রমাণপত্র। (যদি চাকরির করেন তবে)
৫। পাসপোর্ট । ( যদি থেকে)
৬। নিকাহনামা। (বিবাহিত হলে)
৭। পিতা, স্বামী বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।

আবেদনপত্রের সাথে এসব ডকুমেন্টস অবশ্যই প্রথম শ্রেনীর গ্রাজুয়েট অফিসার কতৃক সত্যায়িত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপরিউক্ত ডকুমেন্টস এর যার যেটি আছে, শুধু সেটি দিয়েই করতে হবে । যেমন, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির কম, তাকে এসএসসি বা সমমানের সনদে জমা দিতে হবে না। আবার চাকরি নেই , তাকে চাকরির প্রমাণপত্র দিতে হবে না। পাসপোর্ট না থাকলে সেটিও দেয়া লাগবে না।

★★★ঠিকানা সংশোধনঃ
জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা বর্তমান ঠিকানা ও ভোটার এলাকা পরিবর্তন অর্থাৎ মাইগ্রেশান করার সুযোগ রয়েছে । তবে সব সময় এই সুযোগ থাকেনা। শুধু মাত্র ভোটার তালিকা যখন হালনাগাদ করা হয় সেই সময় ভোট মাইগ্রেশান করা যায় । বর্তমানে ভোটার হালনাগাদ করা হয় শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

একটা নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার মাইগ্রেশানের কারন: আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, ও সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে হয়ে থাকে। দেখা যায়, এক বছরেই একাধিক নির্বাচন হয়। তখন কেউ যেন এক সাথে একই সময়ে ভিন্ন স্থানে অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে না পারে। সে কারনেই সারা বছর ভোটার মাইগ্রেশানের সুযোগ দেওয়া হয় না।

হালনাগাদ করার সময় ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে নতুন ঠিকানার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে ভোটার মাইগ্রেশান ফরম সংগ্রহ করে তা যথাযথ ভাবে পূরণ করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমাদিতে হয়। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না করে শুধু বানান, বাড়ির নম্বর, সড়ক নম্বর ভুল থাকলে তা সংশোধন করার সুযোগ ঢাকার প্রকল্প কার্যালয়ে রয়েছে। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন বা এর কোনো তথ্য সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে দেয়া বর্তমান ঠিকানার ছোটখাটো ভুল সংশোধন বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ পুরো বছরই অর্থাৎ বারো মাসেই থাকে। এ জন্য আবেদনপত্রের সাথে প্রকল্প কার্যালয়ের কাউন্টারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। সেই সাথে পরিবারের যে, কোনো একজন সদস্যের পরিচয়পত্রের কপি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন বিলের যে, কোনো একটির কপি এবং নিজের বা পিতা, মাতার নামে থাকা জমির পচ্চার ফটো কপি সহ, চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অথবা ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত জমা দিতে হয়।

পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলেঃ
পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় ভোটার নম্বর বা আইডি নম্বর উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এরপর জিডির মূল কপিসহ প্রকল্প কার্যালয় থেকে নেওয়া আবেদনপত্র নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্ত স্বীকারপত্র নিতে হবে। প্রাপ্ত স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র পাবেন ।

রক্তের গ্রুপ সংশোধনঃ
রক্তের গ্রুপ সংশোধন করতে হলে, যে মেডিকেলে রক্তের গ্রুপ যাচাই করেছেন সেই মেডিকেল থেকে সংগ্রহকৃত প্রতিবেদনটি দাখিল করতে হবে।

বিবিধ সংশোধনঃ
জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের সামনে কোন পদবি, উপাধি, বা খেতাব ইত্যাদি, কোন কিছু সংযুক্ত করা যাবে না। পিতা, মাতা বা স্বামীকে মৃত দেখাতে চাইলে মৃত্যুর সনদ দাখিল করতে হবে। পরিচয়পত্রে জীবিত পিতা, মাতা বা স্বামীকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখিত হলে। তা সংশোধন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্রের ফটো কপি দাখিল করতে হবে।

নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলেঃ
১৮ বছর বয়স হলেই কেবল ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারবেন। দেশের প্রতিটি উপজেলায় সার্ভার স্টেশন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এসব স্টেশনে ভোটার তালিকা তৈরি ও বিতরণের কাজ করা হবে। এগুলোর কার্যক্রম শুরু হলে যখন যার বয়স ১৮ বছর হবে, তখন তিনি ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারবেন। এখন ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে তাদেরই, যাদের চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কাজের জন্য বিদেশে যেতে হয়। এ জাতীয় কোনো প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ দেখাতে হয়।

হালনাগাদ কর্মসূচির পরিচয়পত্র সংশোধনঃ
২০১৮ সালে ভোটার হালনাগাতের সময় যাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তাদের যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে বা হারিয়ে যায়। তাহলে তাদের ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর প্রকল্প কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

এখনো যারা পরিচয়পত্র ওঠাননিঃ
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যেসব বাসিন্দা (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর থানা ছাড়া) ২০০৭-২০০৮ সালে পরিচয়পত্রের জন্য সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু সেটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে আর তুলেলনি। তারা প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে মূল প্রাপ্ত রশিদ জমা দিয়ে সেই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

সিটির বাইরে ঢাকা জেলার অন্যান্য উপজেলা বা থানার ভোটার কিংবা দেশের অন্য কোনো জেলার ভোটারগণ পরিচয়পত্র নির্দিষ্ট সময়ে না উঠিয়ে থাকলে৷ নিজেদের প্রাপ্ত রশিদ সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মন্তব্য সহ প্রাপ্ত রশিদ জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তাঁদের মূল প্রাপ্ত রশিদ প্রকল্প কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিয়ে প্রাপ্ত স্বীকারপত্র গ্রহণ করতে হবে। প্রাপ্ত স্বীকারপত্রে উল্লেখ করা তারিখে তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

প্রবাসীরা যেভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেনঃ
দেশের বাহিরে থাকা প্রবাসীদের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার। এ জন্য তাঁদের অবশ্যই দেশে আসতে হবে। তাঁদের থাকতে হবে পাসপোর্ট। আর তাতে বাংলাদেশে আসার সিল (অ্যারাইভাল সিল) থাকতে হবে। কারও যদি পাসপোর্ট না থাকে, তবে তাঁকে এমন কোনো কাগজ দেখাতে হবে, যেটা প্রমাণ করবে যে, তিনি বিদেশে ছিলেন।

বিদেশে থাকা সেই ব্যাক্তিকে তার পাসপোর্ট বা অন্যান্য প্রমাণপত্র নিয়ে তাঁকে যেতে হবে তাঁর থানা বা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া এবং ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনপত্র নিয়ে তা পূরণ করতে হবে। সেখানে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদনকারীকে ফরম ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে দপ্তর থেকে সব কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে থাকা, ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের সহায়তা, প্রদান প্রকল্পের দপ্তরে। তবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে কাগজপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আবেদনকারী সেগুলো হাতে হাতে নিয়ে আসতে পারেন প্রকল্পের কার্যালয় থেকে ।

সেখানে আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে, নেওয়া হবে হাতের ছাপ ও চোখের (আইরিশ) স্ক্যান। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে প্রাপ্তি রশিদ দেওয়া হবে। তাতে আবেদনকারীকে ১৫ দিন পর আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলায় প্রকল্পের দপ্তর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হবে। তখন অবশ্যই প্রাপ্তি রসিদ আবেদনকারীর সঙ্গে থাকতে হবে।

যোগাযোগঃ
ভোটার তালিকাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করতে হবে, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্পের আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলার কার্যালয়ে।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *